নতুন বছরের শুরু থেকেই ডোমারের জেলায় এলপিজি সিলিন্ডার ৫ শত টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাস ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিলাররা বলছেন, সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এ ছাড়া চাহিদার তুলনায় কোম্পানিগুলো কম গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। গ্যাস পরিবহনে খরচ বেড়েছে। এ কারণে বাজারে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি দাম বেড়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ডোমার উপজেলার কোথাও মিলছেনা গ্যাস সিলিন্ডার। গ্যাস সিলিন্ডার না থাকায় বেশিরভাগ হোটেল-রেস্তোরা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে দোকানীরা।
গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী তুলু বলেন, ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়েছে। তবে তারা আমাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করলেও তারা কোন রশিদ দিচ্ছেন না। আর এদিকে প্রশাসন বলছে রশিদ ছাড়া কোন মাল ক্রয় করবেন না। ফলে তারা রশিদ না দেওয়ায় আমরা মাল ক্রয় করছিনা।
ক্রেতারা জানিয়েছেন, প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ডিলার বা খুচরা বিক্রেতার কাছে গিয়ে অধিকাংশ সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে তারা বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।
শাহিনুর নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, দোকান খুলে যখন গ্যাস আনতে যাবো তখন গ্যাস বিক্রির দোকানে গিয়ে জানতে পারি গ্যাস নেই। ফলে দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি। রকি নামে আরো এক ব্যবসায়ী বলেন, গ্যাস না থাকলে দোকান বন্ধ রাখতে হবে। দোকান বন্ধ রাখলে আমরা খাবো কি। তাছাড়া এক রাতেই সব দোকানে গ্যাস শেষ হয় কিভাবে।
ক্রেতারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। অনেক গ্রাহক বলেন, ব্যবসায়ীরা তাদের বাসাবাড়ী নিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার রেখেছেন। বেশি দাম পেলে তারা বাড়ী থেকে গ্যাস বিক্রি করছেন।
ডোমার উপজেলায় প্রায় এক লাখ পরিবার ও এক হাজারের বেশি হোটেল-রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানে এলপি গ্যাস ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হঠাৎ করে গ্যাস না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে অনেক পরিবার। বন্ধ রাখতে হচ্ছে দুই শতাধিক হোটেল-রেস্তোরা। আর অস্বাভাবিকভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবহারকারীরা বিপাকে পড়েছেন।
রবিবার (১০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম জানুয়ারি মাসের জন্য ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করলে বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
এফপি/অ