কাজ শেষ হতে না হতেই আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের প্রায় দুইশ মিটার অংশ ধসে খালে পড়ে গেছে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার কারণে সড়ক ধসে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কালিবাড়ী এলাকায় আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের প্রায় দুইশ মিটার অংশ চালিতাবুনিয়া খালে ধসে পড়ে। এ সময় সড়কের বিভিন্ন প্রজাতির গাছও পড়ে যায়। ফলে সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি নির্মাণের সময় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বাদল খাঁন সড়ক ধসে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “সড়ক খালে ধসে পড়েছে। আপনারা যা পারেন লিখে দেন। দেখি তাতে কী হয়।”
জানা গেছে, আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কিলোমিটার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমতলী কালিবাড়ী থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে এলজিইডি। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পায়। পরে কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বাদল খাঁনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই সড়ক নির্মাণে নানা অনিয়ম করা হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, সড়ক সম্প্রসারণে কার্যাদেশ অনুসরণ না করা এবং যথাযথভাবে নির্মাণকাজ না করার অভিযোগও করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও বাবুল অভিযোগ করেন, সড়ক নির্মাণের অনিয়মের বিষয়ে তারা বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ও আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলীকে একাধিকবার অবহিত করেছেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তখন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কালিবাড়ী ও পাতাকাটা এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে খালের মধ্যে পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের বড় অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়কের ওপর গাছ পড়ে থাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের এমন অবস্থা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী জামান রাকিব বলেন, “ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়ম করায় সড়কের প্রায় দুইশ মিটার অংশ চালিতাবুনিয়া খালে ধসে পড়েছে। কাজের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে একাধিকবার জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “সড়ক খালে ধসে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সড়ক ধসে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।”
বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সড়ক ধসে খালে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। ঠিকাদারের কোনো অনিয়ম ছিল কি না, সেটিও কঠোরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এফপি/ফ