ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রণালিটির দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা একটি পথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে এক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে থাকা আরও দুটি জাহাজ তাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এটি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় পড়ে ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করলে অন্য জাহাজগুলোর পরিণতিও একই হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট ও সার সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে এই তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। তাদের ২৫তম পর্বের 'অপারেশন নাসর ২'-এর অংশ হিসেবে ইরাক ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনা অবস্থানগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এই জোরালো আঘাত হানা হয়। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিল শহরে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পরপরই অন্তত ছয়টি বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
পাশাপাশি জর্ডানের বাদশাহ ফয়সাল ও প্রিন্স হাসান ঘাঁটিতে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-ফিফটিন প্রস্তুতকরণ কেন্দ্র এবং কনটেইনারে থাকা আটটি নতুন এমকিউ-নাইন ড্রোন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, একটি হেলিকপ্টার সংরক্ষণাগারে হামলায় দুটি ভারি মার্কিন হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি সামরিক আউটপোস্টে আঘাত হানার ফলে বেশ কয়েকজন মার্কিন সৈন্য হতাহত হয়েছে।
এফপি/অ