সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পূর্ব ইব্রাহীমপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মৃত আক্কাস আলী (৪২) সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আলী হোসেনের বড় ছেলে।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে আক্কাস আলীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
পরিবারের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে সুনামগঞ্জ-ধর্মপাশা নৌপথে চলাচলকারী এমভি রাকিব লঞ্চের মালিক আমিনুর ও ফারুক মিয়ার কাছ থেকে আক্কাস আলী ৫ লাখ টাকা হাওলাত নেন। এর মধ্যে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ফারুক মিয়া ঢাকার একটি আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সম্প্রতি এক বছরের কারাদণ্ড হলে কোরবানির ঈদের চার দিন আগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, কারাগারে থাকার সময় আক্কাস আলী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং মৃত্যুর দিন তাকে মারধর করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “আক্কাস আলী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি কারাগারের একজন কয়েদি হওয়ায় আইনানুগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ মো: মাইন উদ্দিন ভুইয়া জানিয়েছেন, হাজতী আক্কাস আলী অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথেই কারাগারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সদর হাসপাতাল কতৃপক্ষ হাজতী আক্কাস আলী কে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানান।
এফপি/ফ