ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র নামজারি ও জমাখারিজের নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে লাখ টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেবা গ্রহীতাগণ এধরণের প্রতারক চক্রের খপ্পরে পরে, না বুঝেই আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে উপজেলা ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় বুধবার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ভূমি অফিসের অভিযোগ থেকে জানা, “সরকারি নিয়ম ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয়। যেখানে আবেদন ফি ৭০ টাকা এবং অনুমোদন ফি ১১০০ টাকা অনলাইনে জমা দিতে হয়। সরাসরি নগদ অর্থ লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিয়নে সক্রিয় কিছু দালাল ও প্রতারক চক্র উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ ভূমি সেবা প্রার্থীদের নামজারি অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষাধিক পর্যন্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে ”।
সহকারী কমিশনার (ভূমি), বাঞ্ছারামপুর মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া'র ভাষ্য, “বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিস শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সাথে নাগরিকদের ভূমি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ই-নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে সম্পন্ন হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের নগদ অর্থ বা অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন নেই। সম্প্রতি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে একটি দালাল ও প্রতারক চক্র সাধারণ ভূমি সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে মর্মে আমরা জানতে পেরেছি, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এসকল প্রতারকদের সাথে ভূমি অফিসের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
বাঞ্ছারামপুর পৌর প্রশাসক ও এসি ল্যান্ড মো. রবিউল হাসান ভূইয়া বলেন, “নামজারি সংক্রান্ত কাজে সরকারি ফি এর অতিরিক্ত একটি টাকা প্রদানেরও প্রয়োজন নেই। যদি কেউ নামজারি করিয়ে দেয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবী করে তাহলে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা উপজেলা ভূমি অফিসে জানানোর জন্য অনুরোধ করছি। ভূমি সেবা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, প্রতারকদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে এধরণের প্রতারকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এবিষয়ে জমির খারিজ করতে আসা একাধিক সাধারন মানুষের সাথে কথা বলতে চাইলে, তারা মিডিয়ায় কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার কৃষক মো. আজাদ মিয়া বলেন, ‘আমি সরকারি ফি ১১৭০ টাকা দিয়েই খারিজ করেছি।’
এফপি/অ