রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা চালুর পর সিগন্যাল অমান্য বা উল্টো পথে গাড়ি চালানোর মতো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমলেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল ঢাকার ট্রাফিক বিভাগকে চরম বেকায়দায় ফেলেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবশেষে ঢাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অটোরিকশা পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।
ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা থাকায় চূড়ান্ত রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী মাসের (জুলাই) ১৫ তারিখের পর সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে একটি চূড়ান্ত ও সমন্বিত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে ডিএমপি। এরপর সরকারের সহযোগিতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অভিযানে নামবে ট্রাফিক বিভাগ।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানায়, কাওরানবাজার, বাংলামোটরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। আইন ভঙ্গকারীদের ই-প্রসিকিউশনের (ডিজিটাল মামলা) আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু অটোরিকশার ক্ষেত্রে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এসব যানবাহনের সিংহভাগের কোনো বৈধ নিবন্ধন, নম্বরপ্লেট বা চালকদের লাইসেন্স নেই। ফলে ক্যামেরায় আইন ভাঙার দৃশ্য ধরা পড়লেও প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সিগন্যাল লাল থাকলেও সুযোগ বুঝে অটোরিকশাগুলো লেন ভেঙে সামনে চলে যাচ্ছে এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান জানান, অটোরিকশার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে প্রথম ধাপে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা একযোগে সরিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পুরো রাজধানীতে এর চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
মাঠ পর্যায়ের ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে লাখ লাখ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের মতো পর্যাপ্ত জনবল বা ডাম্পিং স্টেশনের সুবিধা পুলিশের একার নেই। প্রতিদিন এদের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযান চালাতে গেলে নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়। তদুপরি, অটোরিকশা ও গ্যারেজ মালিকদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এর পেছনে সরকারি ও রাজনৈতিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ট্রাফিক বিভাগ মনে করছে, শুধু ট্রাফিক জট নয়, অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়ছে, তাই সড়ক সচল করতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
এফপি/অ