“দেয়ালের ওপারে আছে আকাশ
খেয়ালের নানা রং আছে বাতাস
সে আকাশ দেখা হয় না
সে বাতাস এসে ছোঁয় না
কেঁদে যায় কেঁদে যায়
কেমন করে বল ওইখানে যাই
যেখানে তুমি আর তোমরা আছো সবাই...”
তুরস্কের কবি নিজাম হিকমতের কবিতা অবলম্বনে নির্মিত ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ সিনেমার জেলখানার চিঠি গানের এই পঙ্ক্তিগুলো যেন বাস্তব হয়ে ধরা দেয় মাগুরা জেলা কারাগারের ভেতরের চিত্রে। পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন বন্দী জীবনের নিঃসঙ্গতা আর কষ্টের মাঝেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ বন্দীদের মনে কিছুটা স্বস্তির ছোঁয়া এনে দেয়।
মাগুরা জেলা কারাগারে ১৭২ জন এর বিপরীতে বর্তমানে ৪০০ অধিক বন্দী রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ কারাভোগ করছে। বর্তমানে পঞ্চাশোর্ধ ৪৫ জন বন্দী আটক আছে। সিনিয়র সিটিজেন হিসাবে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া তাদের অধিকার। সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে মাগুরা জেলা কারা কর্তৃপক্ষ এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত এ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচিতে পঞ্চাশোর্ধ প্রায় ৪৫ জন বন্দীর রক্ত সংগ্রহ করে আরবিএস, লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোহসিন উদ্দীন ফকির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. এজাজ আহম্মেদ রোচি, ডিপ্লোমা নার্স বদিউজ্জামান এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার।
মাগুরা জেলা কারাগারের ন্যায় প্রত্যেকটি কারাগারে এই কর্মসূচি আয়োজন করলে একদিকে যেমন বন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে অন্যদিকে কারা অভ্যন্তরে মৃত্যুহার কমে যাবে। বন্দীরা তাদের বর্তমান স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হবে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।
এদিকে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ৯৫ বছর বয়সী বন্দী মোহাম্মদ জলিল মোল্লা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ। একইভাবে ৭০ বছর বয়সী বন্দী মো. সাইফুল ইসলামও স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার বলেন, “কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় আমরা বন্দীদের জন্য এ ব্যতিক্রমধর্মী স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এর আগে কারাগারের গার্ডিং স্টাফদের নিয়েও এ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বন্দীদের নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করবে এবং কারাগারকে প্রকৃত অর্থে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এফপি/এমআই