২৯৯ নং রাঙ্গামাটি পার্বত্য আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, জাক ইসথেটিক কাউন্সিলের সভাপতি শিশির চাকমা, সমাজকর্মী গৌরিকা চাকমা, রাঙ্গামাটি আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম এবং মারমা সংস্কৃতি সংস্থার সভাপতি মংসুই প্রু মারমাসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে দাবি করেন, অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তারা বলেন, পাহাড়ের সকল জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে তিনি যে ‘রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যাকে তিনি চিহ্নিত করেছিলেন এবং সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্পন্ন হওয়ার আগেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।
তারা আরও বলেন, সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির মাত্র তিন মাসের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে জাতীয় পরিসর ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি, বাঙালিসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এ ঘটনায় ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে জনগণ অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চায়।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে তাকে সসম্মানে পূর্বের দায়িত্বে পুনর্বহালের দাবি জানান।
পরে মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপি রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপিতে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এফপি/অ