রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গত ৩১ মে সকালে ভূমি অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় এবং উদ্ধারকৃত মালামাল ফেরত না পাওয়ায় বন্ধ রয়েছে ভূমি সেবা। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ।
রবিবার (৭ জুন) ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস খোলা থাকলেও সমস্ত রকম সেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানান ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সুমন গাঙ্গুলি।
এসময় ভূমি অফিসের বাইরে সেবা গ্রহীতা নাসির সরদার ও তমিজউদদীনকে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তারা জানান তাদের একটা জমি বিক্রি করার জন্য দালহা পরচা উঠাতে হবে কিন্তু গত তিনদিন এসে ঘুরে যাচ্ছেন। অফিসের কাজকর্ম বন্ধ থাকার কারণে।
এর আগে গত ৩১শে জুন সকালে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দরজা-জানালা ভেঙে কম্পিউটার মনিটর, সিসি ক্যামেরার সামগ্রী, ফ্যান, পানির মোটর, ব্যাটারী, লাইট, তারসহ ১১ মূল্যবান সামগ্রী চুরি হওয়ার বি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
সেদিনই বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী খানের ভাঙারির দোকান থেকে সিসি ক্যামেরার সামগ্রী, ফ্যান, পানির মোটর, ব্যাটারী, লাইট, জানালার পাইপ ও তিন বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
ঐদিন ৩১শে মে রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় চোরাই মালামাল উদ্ধারের মামলায় ভূমি অফিসের সহকারী বেলাল মন্ডল একটি মামলা দায়ের করেন এবং বিদেশি মদ উদ্ধারের মামলায় বাদী হয়েছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই শিহাব উদ্দিন।
চুরির মামলাসহ দুই মামলায় আসামি করা হয় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী খান, তার ছোট ছেলে অনিক খান এবং বড় ছেলে আরিফ খান এবং উভয় মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে আইয়ুব আলী খানের শ্যালক হালিম (৩৫) কে। একই দিন তাকে ঘটনাস্থল হতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বাকি তিন আসামি পলাতক থাকায় চুরি হওয়া কম্পিউটার ও পিসি উদ্ধার হয়নি। এবং উদ্ধারকৃত মালামাল এখনো থানায় থাকায় কার্যত পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে সরকারি এই ভূমি সেবা। তবে আইয়ুব আলী খানের দোকান খোলা থাকায় আসামি ধরার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে সচেতন মহল।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের আটকের ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকবারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত মালামাল নেওয়ার জন্য রাজবাড়ী কোর্টের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিতে হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান বলেন, চুরির ঘটনা ঘটার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে দৌলতদিয়া মহাসড়কের পাশে আইয়ুব আলী খানের ছেলে অনিক খানের দোকান থেকে এগারোটি মালামালের মধ্যে নয়টি মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ-সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় মালামাল উদ্ধার করে দোকান থেকে আইয়ুব আলী খান এর শ্যালক হালিম (৩৫) নামে একজনকে আটক করা হয়। চোরাই মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় এখনো ভূমি অফিসের কার্যক্রম চালু করা যায়নি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজে উপস্থিত থেকে মালামাল উদ্ধার করেছে এবং এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বাই নামে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনা স্থল থেকে একজনকে আটক করা হলেও বাকী আসামির ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলতে পারবেন। তবে আমরা চেষ্টা করছি অফিসের সেবার কার্যক্রম চালু করতে। কোর্টে আবেদন করা হয়েছে মালামাল পেলে স্বল্প পরিসরে হলেও কার্যক্রম চালু করা হবে।
এফপি/অ