যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ, তিল, পাট ও উফশী আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১,৩৯০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে বীজ ও সার তুলে দিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অলোকেশ কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরী, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রভাষক জাকির হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মানবকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ তাজাম্মুল ইসলাম দীপু, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেশবপুরের প্রধান সমন্বয়কারী সম্রাট হোসেন এবং ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শামীম আখতার মুকুল।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধান, পাট, আলু, শাকসবজি ও মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। কৃষকদের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও জানান, এ কর্মসূচির আওতায় ৬০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ১ কেজি পাট বীজ, ৫ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার, ৩০ জন কৃষককে ৫ কেজি মুগ বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার, ৬০ জন কৃষককে ১ কেজি তিল বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার এবং ৭০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি উফশী আউশ ধানের বীজের সঙ্গে ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হচ্ছে।
বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকবৃন্দ।
এফপি/জেএস