যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় ভুয়া সিআইডি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসা এক ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে খালিয়া মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তি আঃ আলিম (৪০)। তিনি কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের গোপসেনা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী মোড়লের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মনিরামপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের আঃ গনির বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলিম নিজেকে কখনো Criminal Investigation Department (সিআইডি) কর্মকর্তা, কখনো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তা, কখনো National Security Intelligence (এনএসআই), আবার কখনো Directorate General of Forces Intelligence (ডিজিএফআই)-এর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। নিজেকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাবি করে সাধারণ মানুষকে মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার মূল কৌশল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যদের সহযোগিতায় তিনি বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। আটকের সময় তার কাছে একটি ওয়াকি-টকি সদৃশ যন্ত্র দেখা যায়, যা ব্যবহার করে তিনি নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতেন। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, সেটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। তার ব্যবহৃত একটি ভাড়াকৃত প্রাইভেট কারও সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
এছাড়া এলাকায় তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত নানা অভিযোগও রয়েছে বলে জানান মনোহরপুর গ্রামের ইকরামুল হোসেন ও খালিয়া গ্রামের আমিনুর রহমান। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
আটকের পর স্থানীয় জনতা তাকে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সোপর্দ করে। রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তিনি নিজেকে সিআইডি অফিসার পরিচয় দিতেন, কিন্তু তিনি কোনো প্রশাসনের সদস্য নন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে কত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এফপি/জেএস