সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদারের লক্ষ্যে নাগরিক উদ্যোগ সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক যশোর জেলা কমিটির সহযোগিতায় ধর্মীয় নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণে ‘গণভোট ২০২৬’ বিষয়ে এক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভোটের তাৎপর্য, নাগরিক অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সুজন যশোর জেলা কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট গোপিকান্ত সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন যশোরের উপপরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম। তিনি বলেন, গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন যশোর জেলা কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিব। তিনি গণভোটের ধারণা, ইতিহাস এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর সফল প্রয়োগ তুলে ধরে বলেন, জনগণের সরাসরি মতামত রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্ত হলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণভোট জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সজল কোরায়শী, ব্যবস্থাপক, ‘গণভোট ২০২৬’ কর্মসূচি, সুজন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে গণভোট সম্পর্কে সচেতন করা এবং অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সমাজে দ্রুত ও কার্যকরভাবে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
সভায় ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সুজনের প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, গণভোট কেবল একটি ভোটিং প্রক্রিয়া নয়। এটি জনগণের ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতন্ত্রকে আরও গভীর ও কার্যকর করে তোলে। তিনি ধর্মীয় নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিক চেতনা জাগ্রত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভাটি সঞ্চালনা করেন সুজন যশোর জেলার ডিএসএফ অপু দেবনাথ। এতে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, আলেম, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। তারা গণভোট বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনা শেষে মতবিনিময় পূর্বে অংশগ্রহণকারীরা গণভোট বাস্তবায়নের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। আয়োজকরা জানান, গণতান্ত্রিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এফপি/জেএস