অনেকটা নিয়ম ভেঙ্গে পূর্বাচলে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের মহোৎসব পর্দা উঠেছিলো স্বাভাবিক সময়ের দুই দিন পর। বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ায় মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক থাকায় এমনটা ঘটে। এ নিয়ে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫ম বারের মতো। আর মেলার সমাপ্তি ঘটবে ৩১ জানুয়ারি।
এর আগে মেলার এ আসরটি গত ৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে দশটায় পূর্বাচলের ৪ নং সেক্টরে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) ভবনে উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
ইপিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মেলায় টার্গেট ধরা হয় রপ্তানি আয় বৃদ্ধি। বলা হয় এসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবদান। লক্ষ্য ছিলো মাত্র ২১ দেশে বাণিজ্যিক সংযোগ থেকে আরও দেশ যুক্ত করা। কিন্তু রাজনৈতিক সরকার না থাকায় এবং দেশের চলমান পরিস্থিতিতে বৈরী পরিবেশে এ বছর মাত্র ৬ টি বাহিরের দেশ তাদের পন্য নিয়ে মেলায় অংশ নেয়। মেলা থেকে এ বছর নিজ দেশের ব্যবসায়ীদের বন্দরগুলোতে সক্রিয় রাখার তাগিদ দেয়া হয়। নীতি সহায়ক পরিবেশে নিরাপদ বিনিয়োগে রপ্তানি খাত সম্প্রসারণ করতে সরকারকে কাজ করার তাগিদ দেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ভূমিকার কথা জানান ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টরা।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ায় মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারনে ২ দিন পিছিয়ে ৩ তারিখে উদ্বোধন করা হয়েছিলো। দেশীয় পন্যের পরিচিত, বিনোদন মেলা ক্রেতা বিক্রেতার মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে বাণিজ্য মেলা। বিশ্ব বাজারে অবস্থান নিতে গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো সহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবি যৌথভাবে কাজ করে থাকে। নতুন ও মানসম্পন্ন পন্যের বিপুল সমাহার ঘটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নানা কারনে ব্যর্থতাও থাকে।
মেলার ইতিহাস সূত্রমতে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ১৯৯৪ সাল থেকে যথারীতি বছরের প্রথম দিন থেকেই বসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের ৪ নং সেক্টরের বাংলাদেশ- চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) স্থায়ী ভেন্যুতে মেলার আয়োজন শুরু হয়। পূর্বাচলে এবার পঞ্চম বারের মতো মেলার এ আসর হয়ে গেলো। রপ্তানি বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিক্রির চেয়ে প্রদর্শনকে প্রাধান্য দেয়া হয়।
তবে প্রশ্ন থাকে আন্তর্জাতিক মান রক্ষার। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ৬ বা ৭ টা বা ১৩ দেশেই আন্তর্জাতিক হয় না। তাই প্রস্তাব ছিলো শুধু ঢাকা বাণিজ্য মেলা করার। আগামীতে রপ্তানি আদেশ সাড়ে ৬৩ বিলিয়ন টার্গেট করা হচ্ছে। গত বছরের দেশের পরিস্থিতির কারনে এখন কম আছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এবারের ৩০তম আসর আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারনে ৩১ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে। এমনটাই জানিয়েছেন মেলার পরিচালক ইপিবি সচীব তরফদার সোহেল রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্যের বাজারে সংযুক্ত করতে বাণিজ্য মেলার ভূমিকা রয়েছে। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পন্যের মান যাচাই, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নেয়া পাশাপাশি পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ কাজ করছে। এবার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি প্রতিবছর ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য শোভা পায় এ মেলায়। এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।
এফপি/জেএস