আজ ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত! কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় মুখোপাধ্যায়ের সেই উক্তিটি বসন্তে বাসন্তী রঙের সেজে ভালোবাসা দিবসে মাগুরার মানুষ যেন মিলেমিশে একাকার। শহরের বিভিন্ন প্রাণ কেন্দ্রে বসন্ত উৎসব এবং ভালোবাসা দিবস উৎসবে মেতে উঠতে দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ তরুণীদের মধ্যে হলুদ সাজ আর নারীর চুলের খোপায় ফুলের বর্ণিল সাজে দেখা যায়
বসন্তের প্রথম দিন আর ভালোবাসার বিশেষ এই আয়োজন শহরের ক্যাফে রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন বিনোদন পার্কে ছোট বড় এমন কি বিভিন্ন বয়সের যুগলদেরকে দেখা গিয়েছে।
আয়োজনকে আরও রঙিন কররতে ফুলের দোকানগুলোতে ব্যাপক ভিড় দেখে যায়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শহরের চৌধুরীর মোড়সহ বিভিন্ন সড়কের পাশে স্থায়ী ও অস্থায়ী ফুলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। লাল গোলাপ, গাঁদা, জারবেরা, রজনীগন্ধাসহ নানা রঙের ফুল ও বাহারি তোড়া সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে লাল গোলাপ এবং হলুদ-কমলা রঙের ফুলের চাহিদা ছিল বেশি।
তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি পরিবার নিয়েও অনেকে ফুল কিনতে বের হয়েছেন। বসন্তের রঙে রঙিন পোশাকে সেজে প্রিয়জনের জন্য ফুল বেছে নিতে দেখা গেছে অনেককে।
কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, কেউবা প্রিয় মানুষকে চমকে দিতে ব্যস্ত।
ফুল বিক্রেতারা জানান, দুই আয়োজন একসঙ্গে হওয়ায় বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারে দামের ওঠানামার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। মান ও আকারভেদে প্রতি পিস গোলাপ ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ডিজাইনের তোড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। কিছু ক্রেতা বলেন, বিশেষ দিন হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে ফুল কিনতেই হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম সহনীয় রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল জানান, আগের মতো পহেলা ফাল্গুন উদযাপন এখন ততটা জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও ভালোবাসা দিবসের কারণে বিকেলে ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
সব মিলিয়ে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে মাগুরার ফুলের বাজারে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত উৎসবের আবহ। দামের বিষয়ে মতভেদ থাকলেও বেচাকেনায় রয়েছে চাঙা ভাব, আর বসন্তের আগমনে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভালোবাসার রঙ।
এমনই এক যুগল ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান ডলার তিনি বলেন, দিনটি স্মরণ করে রাখতে পরিবার নিয়ে বিনোদন পার্কে এসেছি। তিনি মাগুরার জেলা প্রশাসনের কাছে মাগুরার বিনোদন স্পট গুলো আরো দৃষ্টিনন্দন করার ব্যাপারে দৃষ্টিপাত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এফপি/জেএস