সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ আসনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে ফলাফল পুনঃগণনার দাবিতে রংপুরের পীরগাছায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পীরগাছা ইউনিয়ন পরিষদ মোড় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। পরে পূনরায় ইউনিয়ন পরিষদ মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, রংপুর-৪ আসনে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা জামায়াতের লোক নিয়োগ করা হয়েছে এবং ফলাফল গণনার সময় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্টদের নানা অজুহাতে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, প্রায় ৮ হাজার ২৬৩টি ভোট বাতিল দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে তাদের গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। তারা রংপুরের জেলা প্রশাসককে জামায়াতের রোকন হিসেবে অভিহিত করেন। জেলা প্রশাসক ইঞ্জিনিয়ারিং করে রংপুরের ৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থীকে হারানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সভায় নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভোট পুনঃগণনার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে অবিলম্বে রংপুরের জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লোকমান হোসেন, যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেস ও সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা।
এদিকে অভিযোগে বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, যথাযথ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
এর আগেও শুক্রবার রাত ১০টায় একই দাবিতে পীরগাছায় বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মাহবুবার রহমানও তার নিজ বাড়িতে জরুরী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ তুলে ভোট পুনঃগণনার দাবী জানান।
উল্লেখ্য, এই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি'র সদস্য সচিব আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৯ হাজার ৪০২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজর ৫৬৪ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। দুই উপজেলার ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৪। এর মধ্যে বৈধ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৮ হাজার ২৬৩। প্রদত্ত ভোটের হার ৬৬.৩৫।
এফপি/জেএস