নকল হাজী বিরিয়ানি, খোলামেলা ধুলাবালিময় পরিবেশে খাবার রান্না ও পরিবেশন এবং নিম্নমানের খাদ্যপণ্য দিয়ে তৈরি অস্বাস্থ্যকর খাবারের হোটেলে সয়লাব ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার প্রাঙ্গণ। তবে এসব খাবার হোটেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করলেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না।
মাসব্যাপী চলমান ৩০তম আসরের শেষ সপ্তাহে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মেলা ঘুরে দেখা যায়, দুপুর থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলার অভ্যন্তরে শুরুতে কয়েকটি আইসক্রিম কোম্পানি ও টেস্টিট্রিটসহ স্ন্যাকস জাতীয় খাবারের দোকানে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। তবে মেলার উত্তরাংশে ‘নকল হাজী বিরিয়ানি’ নামে অন্তত ১৩টি খাবারের স্টলে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে খাবার রান্না ও পরিবেশন করা হচ্ছে।
নিম্নমানের এসব খাবারের দাম রাখা হচ্ছে মেলার বাইরে থাকা হোটেলের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি। ফলে দর্শনার্থীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে নিম্নমানের খাবার খাচ্ছেন। খাবার হোটেলের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাবার আকর্ষণীয় করতে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হচ্ছে। চাপ, তন্দুরি, গ্রিল, কাবাব, বটি কাবাবসহ বিভিন্ন খাবার খোলামেলা পরিবেশে কড়াইতে ভাজা হচ্ছে। একাধিকবার ব্যবহৃত তেল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া স্বাদ বাড়ানোর নামে অতিরিক্ত সাদা লবণ বা টেস্টিং সল্ট ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মেলার মূল প্যাভিলিয়নে বরাদ্দপ্রাপ্ত উত্তরার একটি ‘নিউ রোজ লেক ভিউ’ রেস্তোরাঁতেও নিম্নমানের খাবার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইপিবি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। ভ্যাট ফাঁকি দিতে রেস্তোরাঁয় গোপন রশিদ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেস্তোরাঁর ঠিকাদার হারুন উর রশিদ বলেন, ‘মেলায় স্টল পেতে যে খরচ হয় তা তুলতে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। ফলে খাবারের পরিমাণ ও মান শতভাগ বজায় রাখা সম্ভব হয় না। তবে বড় আয়োজনে কিছু ত্রুটি থাকতেই পারে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জোনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সিকদার শাহিনুর বলেন, “ভোক্তার লিখিত অভিযোগ ছাড়া আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না। যেসব অভিযোগ পাই, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়। এ ক্ষেত্রে জরিমানা আদায়, সতর্ককরণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন পর মেলা শুরু হওয়ায় ন্যূনতম পাঁচ দিন সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মেলার শেষ সপ্তাহে স্টলগুলোতে বিভিন্ন পণ্যে ছাড় দেওয়ায় আগের সময়ের তুলনায় বেচাকেনা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।