ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাসব্যাপি চলা ৩০ তম আসরের শেষ সপ্তাহে ছাড়ের ছড়াছড়ি চলছে। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকেই বেড়ে যায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি।
এবার মেলায় আগ্রহ দেখা গেছে কয়েদীদের তৈরী কারাপন্যের প্যাভিলিয়নে। যদিও বরাবরের মতো রয়েছে পন্যের দাম ও মান নিয়ে অভিযোগ। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক থাকায় নির্ধারিত সময়ের ২ দিন পর মেলা শুরু হওয়ায় নুন্যতম ৫ দিন সময় বাড়ানোর দাবী করেছেন ব্যবসায়ীরা
মেলা ঘুরে দেখা যায়, পূর্বাচলের স্থায়ী প্যাভিলিয়নের ৫ম আসরের শেষ সপ্তাহে উপছে পড়া ভীর। স্টলে স্টলে স্ব স্ব পন্যে ছাড় দেয়ার ঘোষণায় বেচাকেনা বিগত সময়ের চেয়ে বেড়েছে । ফার্নিচার স্টল এলাকায় জেএমজি কোম্পানির বিক্রয়কর্মী সাইফ খান বলেন, তাদের পন্যে ২০ % ছাড়সহ ঢাকা জেলা ও আশপাশের জেলার গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে দেয়ার অফার করা হয়েছে। ফলে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। তবে মেলায় প্রদর্শনীকে প্রাধান্য দেয়া হলেও বিক্রি বেড়েছে আগের তুলনায় বেশি। মেলায় ইলেকট্রনিকস পন্য সহ গৃহস্থালি পন্যের বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে।
জেলখানায় কয়েদীদের তৈরী পন্য ক্রয়ে আগ্রহ দেখা গেছে ক্রেতাদের। তবে শীত কমে যাওয়ায় ক্রেতার ভাটা পড়েছে শীতের পোষাক আর ব্লেজারের দোকানে। তারা ছাড় দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেননা বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন। ব্লেজার বিক্রেতা ফরিদ হাসান বলেন, মেলায় এসে পুরোপুরি হতাশ হলাম। ৫০% ছাড় দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছি না। এটা খুবই দুঃখজনক। হয়তো শীত কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে।
মেলায় কারাপন্যের প্রদর্শনী আর বিক্রয় উভয় সমানতালে। কাশিমপুর কারাগারের ডেপুটি জেলার ইয়াসমিন জাহান জুঁইয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, কয়েদীরা তাদের তৈরী পন্যের ৫০ ভাগ লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। আর বৃহত্তর প্রদর্শনী হিসেবে বাণিজ্য মেলার অপেক্ষায় থাকি আমরা। এখান থেকে এ পন্যগুলোর প্রচার,বিক্রি হয়ে থাকে।
মেলায় আসা দর্শনার্থী নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া মঞ্চের আহবায়ক জজ মিয়া বলেন, ছাড় চলছে প্রায় সব পন্যে। তবে দাম ও মান নিয়ে অভিযোগ থাকলেও একই প্রাঙ্গণে প্রয়োজনীয় প্রায় সব পন্য পাওয়া যায়। তবে মেলার পরিচালনায় বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দেয়া উচিত ইপিবির। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রাখা জরুরী। তবে পরিচালনায় সমস্যাগুলো সংশোধন হলে মেলার আয়োজন স্বার্থক হবে।
এফপি/জেএস