সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং ফলিত পুষ্টির গুরুত্ব নিয়ে রংপুরের পীরগাছায় দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করা, সুষম খাদ্যের সঠিক বিন্যাস এবং নিরাপদ ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। আধুনিক জীবনযাত্রায় পুষ্টিহীনতা ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের ঝুঁকি এড়াতে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই আয়োজন বলে আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়।
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র পেট ভরে খাওয়া নয়, বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পুষ্টিমান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। কৃষকদের মাধ্যমে এই বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে।” প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মোট ৬০ জন সুফলভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান), আঞ্চলিক কার্যালয়, রংপুরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেকুল ইসলাম। তিনি তার সেশনে ফলিত পুষ্টির প্রায়োগিক দিকসমূহ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “বর্তমানে রান্নার ভুল পদ্ধতি এবং সঠিক খাদ্য উপাদান সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবে আমরা পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। হাতের কাছের সস্তা ও পুষ্টিকর শাক-সবজি এবং ফলের সঠিক ব্যবহার জানলে সহজেই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।”
দিনব্যাপী এই সেশনে অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যের উপাদান ও সুষম খাবারের প্লেট সাজানোর নিয়ম। অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধে ফলিত পুষ্টির ভূমিকা। শাক-সবজি ও ফলমূলে বিষমুক্ত উপায়ে ফলন বৃদ্ধি। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টি ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। অংশগ্রহনকারীদের হাতে-কলমে প্রদর্শনী এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়।
এফপি/জেএস