মাগুরার মহম্মদপুরে বাড়িফেরত এক গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা দুজনই বৈষব্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত উপজেলা কমিটির সদস্য। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার পর রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার তরুণেরা হলেন– উপজেলার গোপালপুর গ্রামের নাফিস আহমেদ স্বাধীন (২২) ও সিজান মাহমুদ সানি (২১)। স্বাধীন মহম্মদপুর কারিগরি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ও সানি মহম্মদপুর আমিনুর রহমান কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
সোমবার রাতে ধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ (৩৮)। তাঁর স্বামী প্রবাসী। ভুক্তভোগী নারী ফরিদপুরের একটি পাটকলে কর্মরত। প্রতিদিন মহম্মদপুরের বাড়ি থেকে কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে কর্মস্থল থেকে বাসে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন ওই গৃহবধূ। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গোপালপুর গ্রামের আরব ব্রিকসের মোড়ে বাস থেকে নামেন তিনি। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা চার তরুণ তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, সিজান মাহমুদ সানি, নাফিস আহমেদ স্বাধীন, রুবেল ও সুমন নামের চারজন তাকে ধর্ষণে জড়িত। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতেই সানি ও স্বাধীনকে আটক করে পুলিশ। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বুধবার দুপুরে তাদের মাগুরা আদালতে পাঠানো হয়। অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।
বৈষব্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুসাইন বলেন, গত বছরের এপ্রিলে মহম্মদপুর উপজেলা শাখার কমিটি গঠিত হয়েছিল। পরে ওই কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিনের মধ্যেই কমিটিটি বিলুপ্ত করা হয়। আট মাস ধরে সেখানে তাদের সংগঠনের উপজেলা কমিটি কার্যকর নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার দুইজন আগে ওই কমিটিতে ছিলেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার কারণে কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এফপি/এমআই