গোপালগঞ্জে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গাছের চারা ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুশাসন চত্বরে বেশ কয়েকটি গাছের চারা রোপন করেন অনুষ্ঠোনের প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবর্গ।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শোভন সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রাফিকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে করণীয় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান বলেন, দেশের পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকজাতীয় পণ্যের ব্যবহার পরিহার এবং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দেন।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ দূষণ, জলাশয় ভরাট, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, জলাশয় সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ কর্মসূচিতে জেলার সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক এনজিও, ওয়াইডাব্লিউসিএ,এইচ এস এন্টারপ্রাইজ ও এমসি ট্রেড সেন্টার,বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশন(বন্ধু) বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এফপি/অ