ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ৭.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আজ বৃহস্পতিবার পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৭৫ সেন্টিমিটার (২.৫ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ সৃষ্টি হয় এবং সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়, তবে পরবর্তীতে তা সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভোরে সুলাওয়েসি ও মালুকু দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী মলুকা সাগরে ৩৫ কিলোমিটার অগভীর স্থানে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদো শহরে একটি ভবন ধসে একজন নিহত হয়েছেন বলে এএফপিকে জানিয়েছেন স্থানীয় এক অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা। জর্জ লিও মার্সি রান্দাং টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে এবং মানাদো ও তার আশেপাশে... একজন মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছিলেন।’
হাওয়াই-ভিত্তিক প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার (পিটিডব্লিউসি) প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে এক হাজার কিলোমিটার (৬২১ মাইল) ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়ার উপকূল বরাবর বিপজ্জনক সুনামি ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা বিএমকেজির তথ্যমতে, ভূমিকম্পের আধা ঘণ্টার মধ্যে সুলাওয়েসি দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত উত্তর মিনাহাসা-তে ৭৫ সেন্টিমিটার এবং বিটুং-এ ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর মালুকু প্রদেশেও ৩০ সেন্টিমিটার উঁচু ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় পর পিটিডব্লিউসি তাদের সতর্কতা তুলে নেয় এবং জানায়, ‘সুনামির হুমকি এখন কেটে গেছে।’
তেরনাতের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বুদি নুরগিয়ান্তো বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি তার বাড়ির ভেতরে ছিলেন, এবং এরপর আতঙ্কিত লোকজন বাইরে বেরিয়ে আসে।
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পটি বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল। আমি প্রথমে বাড়ির দেয়াল কাঁপতে থাকার শব্দ শুনি।’ যখন আমি বাইরে গেলাম, তখন দেখলাম বাইরে অনেক লোক। তারা আতঙ্কিত ছিল।
ভূমিকম্পটি এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অনুভূত হয়েছিল।
বিএমকেজি প্রধান তেউকু ফয়সাল ফাথানি রাজধানী জাকার্তায় সাংবাদিকদের জানান, বড় ভূমিকম্পের পর ১১টি পরবর্তী কম্পন বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৫.৫। এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, ‘লোকজন বাইরে হুড়মুড় করে ছুটছিল। সেখানে একটি স্কুল ছিল এবং ছাত্রছাত্রীরা বাইরে ছুটে বের হয়ে যায়। কম্পন বেশ দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল, কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’
পিটিডব্লিউসি প্রাথমিকভাবে সতর্ক করেছিল, ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশে এক মিটার পর্যন্ত সুনামি ঢেউ হতে পারে এবং ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, জাপান, তাইওয়ান, গুয়াম ও পালাউতে ছোট ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা কোনো সতর্কতা জারি করেনি। ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার ভূমিকম্প কেন্দ্রগুলোও সুনামি সতর্কতা জারি করেনি।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়। এটি তীব্র ভূকম্পন কার্যকলাপের একটি বলয়, যেখানে টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষ হয় এবং জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাজুড়ে বিস্তৃত। ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে ৯.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।
এফপি/অ