ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, “জামায়াত আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু শরিয়াহ বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার না থাকায় আমরা কোনো জোটে যাইনি।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজুরের পক্ষে নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, “পরিবর্তনের জন্য ঝুঁকি নিয়ে আমরা নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তবে আমরা একা নই। আমাদের সঙ্গে আল্লাহ আছেন, দেশপ্রেমিক মানুষ আছেন, ইসলামপ্রেমিক জনগণ আছেন।”
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর আদর্শ জনগণকে যাচাই করতে হবে। বিএনপিসহ তাদের জোট যে নীতি ও আদর্শ নিয়ে দেশ চালাতে চায়, সেই আদর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রায় ৫৪ বছর পরিচালিত হয়েছে। এটি মূলত প্রচলিত গণতন্ত্রের নীতি, যার প্রবক্তা ছিলেন মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন—যেখানে জনগণকে সমস্ত ক্ষমতার মালিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, “জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা নিজেরাই স্বীকার করছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে ইসলাম অনুযায়ী নয়, প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই দেশ পরিচালনা করবেন। যে প্রচলিত ব্যবস্থায় দেশ ৫৩–৫৪ বছর চলেছে, সেই একই নীতি আবার প্রয়োগ করলে বাংলাদেশের মানুষ শান্তি কিংবা মুক্তি পাবে—এটা কল্পনাও করা যায় না।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নবীনগর উপজেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার। সভায় প্রধান আকর্ষণ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জিয়াউল হক সরকার, হাবিবুর রহমান মিজবাহ, আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা মেহেদি হাসান, আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এফপি/জেএস