ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন জোড়া লাগা সেই যমজ দুই শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম মারা গেছে। বুধবার বিকেলে শিশু দুটির মৃত্যু হয়।
রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশু দুটির হার্ট ছিল একটি। সেটিও ছিল ফুটো। যার ফলে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান।’
জয়নব ও উম্মে কুলসুম কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাথুয়া গ্রামের নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির সন্তান। গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকেই শিশু দুটি বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগানো অবস্থায় ছিল।
১১ আগস্ট প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। সন্তানদের চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য না থাকায় কিছুদিন ঢাকায় থাকার পর তিনি শিশু দুটিকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান।
পরে ১১ আগস্ট এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেন। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশু দুটির মা–বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
গত সোমবার রাত আটটার দিকে শিশু দুটিকে ঢামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই তাদের দেখতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারি খরচে শিশু দুটির চিকিৎসা করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, শিশু দুটির চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে পরিকল্পনা করা হবে। প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে চিকিৎসক বোর্ড গঠন করার কথাও বলা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মধ্যেই শিশু দুটির মৃত্যু হলো।
এফপি/র