জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তাঁরা বলেছেন, শিক্ষাঙ্গনে গঠনমূলক রাজনৈতিক চর্চা, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে সুদৃঢ় করতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁর ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, শিক্ষাঙ্গনে গঠনমূলক রাজনৈতিক চর্চা, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ জরুরি।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ নির্মাণে তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ২০২৪-এর স্মৃতিচারণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদনান মুস্তারি, সাবেক সভাপতি অর্পিতা গোলদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন অংশ নেন। প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি খাদেমুল করিম ইকবাল।
আলোচনা সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, এর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণদের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক যাত্রায় তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির উদ্যোগে একটি প্রদর্শনী বিতর্কও অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কের প্রস্তাবনা ছিল—‘এই সংসদ মনে করে জুলাই সফল।’
প্রদর্শনী বিতর্কে সংগঠনের সাবেক সভাপতি শেখ মো. আরমান, সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা আজাদ, সাবেক সহ-সভাপতি মাইশা মালিহা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন ফাহিম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাসনিম আক্তার আলিফ নাবিলা এবং সুফিয়া কামাল ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারিহা নওশীন অংশ নেন।
বিতর্কে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক যাত্রা নিয়ে যুক্তিনির্ভর আলোচনা হয়। বিতার্কিকরা জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে প্রস্তাবনার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির চিফ মডারেটর অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা, মডারেটর অধ্যাপক ড. আমিরুস সালাত, সাবেক সভাপতি খাদেমুল করিম ইকবাল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনির উদ্দিন আহামেদ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের সভাপতি মো. সাজিদ হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত সঞ্চালনা করেন।
এফপি/ফ