জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে মশার রাজত্ব শুরু হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। মশার যন্ত্রণায় একদিকে যেমন একাডেমিক পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগের আতঙ্কে দিন কাটছে ক্যাম্পাসবাসীর।
সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যাস্তের সাথে সাথেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর কক্ষ, বারান্দা, রিডিং রুম ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে মশার উপদ্রব তীব্র আকার ধারণ করে। শুধু হল নয়, ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত স্থানগুলোতেও মশার কারণে অবস্থান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত মশা নিধন কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ ইকবাল বলেন, “বর্তমানে ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে ক্লাসরুম বা লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেঙ্গুর এই সময়ে এমন পরিস্থিতি আমাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ড্রেন ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো।”
একই উদ্বেগের কথা জানান পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়ামুল ইসলাম। তিনি বলেন, “সন্ধ্যার পর হলের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের উচিত দ্রুত পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা এবং স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ড্রেনে পানি জমে থাকা এবং ঝোপঝাড় সময়মতো পরিষ্কার না করায় মশার বংশবিস্তার বেড়েছে। আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা বলছেন, কয়েল বা মশারি ব্যবহার করেও মশার হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো মশা নিধন কর্মসূচি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।
মশার উপদ্রব কমানোর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। ইতোমধ্যে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেছি যাতে ক্যাম্পাসে দ্রুত মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করছি। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান হবে।”
তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেবল সাময়িক সমাধান নয়, বরং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও আধুনিক মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রত্যাশা।
এফপি/জেএস