মুখে বারবার ব্রণ ওঠা বর্তমানে খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। বেশিরভাগ সময় আমরা এর জন্য দোষ দিই তেল-মসলাযুক্ত খাবার, মানসিক চাপ, হরমোনের ওঠানামা বা ত্বকের ভুল যত্নকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে শরীরের ভিটামিনের ঘাটতি।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান কমে গেলে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে ব্রণ, লালচে দাগ বা ত্বকের প্রদাহ বাড়তে পারে।
আর কী কী কারণ থাকতে পারে, চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন এ-এর অভাব ব্রণের অন্যতম কারণ হতে পারে। এই ভিটামিন ত্বকের কোষ তৈরি ও মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে ভিটামিন এ কম থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, মৃত কোষ জমে ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই ব্রণের সৃষ্টি হয়।
পাশাপাশি এটি ত্বকের তেল উৎপাদনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস হলো গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক ও অন্যান্য সবুজ শাক-সবজি।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্সও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য খুব জরুরি। বিশেষ করে ভিটামিন বি২, বি৩, বি৬ এবং বি১২-এর ঘাটতি ত্বকে প্রদাহ বাড়াতে পারে, যার ফলে ব্রণ দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন বি শরীরের বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখে এবং কোষের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২-এর অভাব হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যা ব্রণের ঝুঁকি বাড়ায়। গোটা শস্য, ডাল, ডিম, দুধ এবং সবুজ শাক-সবজি থেকে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।
ভিটামিন সি ত্বকের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ত্বককে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
একই সঙ্গে এটি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ত্বককে টানটান ও উজ্জ্বল রাখতে সহায়ক। ভিটামিন সি-এর অভাব হলে ব্রণ সেরে উঠতে সময় লাগে এবং দাগ দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। আমলা, কমলা, লেবু, পেয়ারা ও স্ট্রবেরি ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও বর্তমানে ব্রণের একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ভিটামিন ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ভিটামিন ডি কম থাকলে ত্বকের প্রদাহ বেড়ে গিয়ে ব্রণ আরো খারাপ হতে পারে। নিয়মিত সূর্যালোক পাওয়া এবং দুধ, ডিম বা দইয়ের মতো খাবার খেলে এই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে মুখে ব্রণ কেবল বাহ্যিক ত্বকের সমস্যা নয়—এটি অনেক সময় শরীরের ভেতরের পুষ্টির ঘাটতিরও ইঙ্গিত দেয়। তাই শুধু বাহ্যিক ক্রিম বা ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।
তারপরও দীর্ঘদিন ব্রণ না কমলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে সঠিক কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা যায়।
এফপি/অ