প্লাস্টিক ও পলিথিম মুক্ত ঘোষণার মধ্য দিয়ে পূর্বাচলে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রথম সরকারী ছুটির দিন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ব্যাপক দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার এ আসরে হরেক পন্যের বিক্রয় ও প্রদর্শনীর পাশাপাশি দেশীয় পন্য রপ্তানি আর ক্রেতা বিক্রেতার মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। তবে সব পন্যের দাম বাড়তি রাখার অভিযোগ করেছেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা।
মেলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারিতে শুরু হওয়া পূর্বাচলের ৪নং সেক্টরে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) ভবনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর ঘিরে চলছে নানা ছাড়ের অফার। তবে পন্যের দাম ও মান নিয়ে বরাবরের মতো রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মুশুরী এলাকার বাসিন্দা তানভিরুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, মেলায় হরেক পন্যের পাশাপাশি বিদেশী পন্যের স্টলগুলো দর্শনীয়। তবে দাম হাঁকা হচ্ছে বেশি।
মেলায় নিরাপত্তায় দায়িত্বরত রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণায় ৩ দিন পর শুরু হয় মেলা। আবার ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবে, একই সময়ে তীব্র শীতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম ছিলো। আজ আবার বেড়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে ৭ শতাধিক পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা।
মেলায় থাকা কারাপন্য বিক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, এ বছর নানা কারনে বেচাকেনা কম হচ্ছে। তবে কারাপন্যের চাহিদা সব সময় রয়েছে।
তবে আয়োজকরা মনে করছেন বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্যের বাজারে সংযুক্ত করতে বাণিজ্য মেলার আসর বসে। আর ব্যবসায়ীদের প্রদর্শনে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পন্যের মান যাচাই, আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নেয়া পাশাপাশি পারস্পরিক বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাণিজ্য মেলা কাজ করছে। এবার বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।
দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি প্রতিবছর ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য শোভা পায় এ মেলায়। এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। তবে রূপগঞ্জ উপজেলার উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এফপি/জেএস