তীব্র শীতে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে খুলনাসহ আশপাশের জেলাগুলো পানিবাহিতসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত তিনদিনে ১ হাজার ৪০০ জন শিশু খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের শয্যা সংকট থাকায় খুলনার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে পরিবারের সদস্যরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত তিন দিনে শৈত্য প্রবাহের কারণে বিভাগের ১০ জেলা থেকে পানিবাহিত ও ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে। এ সময়ে বর্হি বিভাগে ১ হাজার ৪০০ জন বর্হি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। ঠান্ডা জনিত কারণে আক্রান্ত হয়ে ৬৮ জন এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশ শিশুরা জ্বর, সর্দি-কাশি, কোল্ড ডায়ারিয়া, পেটের পীড়া এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেশী।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় বাগেরহাটের নুরুন্নাহারের সাথে। তিন বছরের শিশু হায়দার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত তিনদিন ধরে শীত জেকে বসেছে।
তিনি বলেন, বাড়িতে শিশুরা খুব দুষ্টমি করে। ঠান্ডায় পায়ে স্যান্ডেল না দিয়ে খালি পায়ে ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। রাতে গায়ে কম্বলও রাখে না। গত রোববার হঠাৎ জ্বর ও সাথে কাশি শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে কমেনি। পরে খুলনায় এসে শিশু চিকিৎসক ও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারলাম হায়দার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। পরবর্তীতে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরমর্শ দিলে মঙ্গলবার সকালে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলছে প্রথমে এখানে সিট পেতে সমস্যা হলেও পরবর্তীতে তা পাওয়া যায়।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিফাতের মা সুমি বেগম জানান, আমার ছেলে বৃহস্পতিবার রাতে কোল্ড ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়। ওই রাতে উপজেলার স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। কিন্তু সেখানে তার চিকিৎসার উন্নতি না হওয়ায় গত শনিবার সকালে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসলে এখানকার চিকিৎসক তাকে ভর্তি করানোর কথা বলে। ছেলের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।
তেরখাদা উপজেলা থেকে তিন মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে এসেছেন রাফেজা বেগম। তিনি বলেন, জ্বর, সর্দি-কাশি হচ্ছে তার ছেলের। বর্হি বিভাগে ডাক্তার দেখাবো। অবস্থা খারাপ হলে ভর্তি করাবো।
খুলনা শিশু হাসপাতালের বর্হিবিভাকে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৫০ এর উপরে শিশু নিয়ে বসে আছেন মায়েরা। এসব শিশুরা ঠান্ডাবাহিত রোগ নিয়েই ডাক্তার দেখাতে এসেছেন।
জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডালিয়া বেগম বলেন, গত তিনদিনে খুলনায় প্রচন্ড শীত পড়েছে। এ সময় হাসপাতালের বর্হি বিভাগে শিশুরা চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৪০০ জন। ঠান্ডা জনিত ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
এই চিকিৎসক বলেন, প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সব রোগীদের ভর্তি করাতে পারছি না। হাসপাতালে শস্যা সংখ্যা কম থাকায় অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে যাচ্ছেন।
জানতে চাইলে এ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে কেবিনের সংখ্যা ৩৬ টি এবং সাধারণ বেডের সংখ্যা ২৭০ টি। রোগীতে পরিপূর্ণ রয়েছে হাসপাতালটি। বর্হি বিভাগে রোগীর সংখ্যা একটু বেড়েছে। কিন্তু জ্বর, সদি-কশি, নিউমোনিয়া এবং ডায়ারিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন জেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, শয্য যদি খালি থাকে তাহলে রোগীদের ভর্তি করা হয়। আর খালি না থাকলে তাদের সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জ থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীরা এখানে আসছে বলে তিনি জানান।
এফপি/অ