মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করার পরিকল্পনায় অনড় রয়েছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার এমন ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন, তবে সেখানে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের শিরোনাম হলো ‘মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত করছে পেন্টাগন।’
এদিকে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটির ওপর আবারও ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ চালানো হবে। আল জাজিরা ও আনাদোলু।
প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য একটি বিমানবাহী রণতরীকে প্রস্তুত করতে পেন্টাগন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। নতুন রণতরীটি ওই অঞ্চলে আগে থেকে মোতায়েন করা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে যোগ দেবে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে নেতানিয়াহু তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তি করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি শুধু ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব, নাকি সম্ভব নয়; তা যাচাই করতে দেশটির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছি।’
গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। গত বছরের পর এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার পরোক্ষ আলোচনা। ওয়াশিংটন ও তেহরান দুই পক্ষই বলেছে, তারা কূটনৈতিক পথ অব্যাহত রাখবে। তবে কবে দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা হবে, সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানানো হয়নি। এদিকে নেতানিয়াহু যেন চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত না করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে তেহরান।
অন্যদিকে আগামী মাসে অর্থাৎ মার্চেই ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি সমঝোতা চুক্তি হবে বলে আশা করছেন ট্রাম্প। যদি তা না হয়, তাহলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় সামনের মাসে, এমন সময়ের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হবে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। নয়তো যা ঘটবে তা হবে খুব ভয়ঙ্কর। আমি এমনটা চাই না, কিন্তু আমাদের একটা সমঝোতা চুক্তি করতেই হবে এবং এ ক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। যদি তারা না এগোয় তাহলে ফের অপারেশন মিডনাইট হ্যামার শুরু হবে এবং এবার এই অপারেশন হবে আরও ভয়াবহ।’
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে তেহরানের সঙ্গে উত্তজনা চলছে ওয়াশিংটনের। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
এফপি/অ