ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত গ্রামে নিজ স্ত্রী কন্যার কাছে মাদকের না পেয়ে মোস্তফা মিয়া নামে জনৈক মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজ বসতবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগুনে পুরো বাড়ি ভষ্মিভূত হয়। এতে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব টিনের চৌচালা ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আগুন দেয়ার আগে ঐ মাদকাসক্ত মোস্তফা মিয়া নিজ শিক্ষক কন্যা চাঁদনী বেগমকে বেধড়ক মারধর করে ও পরে তিনি স্ত্রী কন্যার আঘাতে নিজেও আহত হয়। দু'জনের অবস্থাই আশংকাজনক হওয়ায় বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতাল হয়ে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেশীরা জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোস্তফা মিয়া দীর্ঘদিন যাবত মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য স্ত্রী হাওয়া বেগম ও স্থানীয় ফিরোজা বেগম আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা চাদনীর উপর মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন করতেন। গতকাল বিকেলে টাকা না পেয়ে প্রথমে চাঁদনীর উপর হামলা করে গুরুতর আহত করে। টাকা না পেয়ে এক পর্যায়ে ক্ষোভে নিজ বাড়িতেই আগুন লাগিয়ে দেয়।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, “আগুনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল দরিয়াদৌলত উত্তর পাড়া যাই। খোঁজ নিয়ে জানা গেল মাদকের টাকা না পেয়ে মোস্তফা মিয়া স্ত্রী হাওয়া বেগমের নামে থাকা বাড়িটি জ্বালিয়ে দেয় ও নিজ মেয়েকে আহত করে। তাদের কেউ থানায় মামলা করেনি।”
বাঞ্ছারামপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব অফিসার আবু জাফর তালুকদার জানান, “আমরা ধারনা করেছিলাম বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছিলো। পরে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোস্তফা মিয়া নিজেই পুড়িয়ে দেয় ঘরটি। এতে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রঞ্জন বর্মন জানান, “আমাদের কাছে মোস্তফা মিয়া ও তার কন্যা চাঁদনী বেগম দুজনেই চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের শরীরে গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিলো ও আশংকাজনক হওয়ায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। তারা আমাদেরকে জানায় মাদকের টাকার জন্য বাবা মেয়ে পারস্পরিক লিপ্ত হয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।”
এফপি/অ