বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষে শনিবার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে র্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে লাবণী পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে ঘোড়া, বিচ বাইক, ঘোড়ার গাড়ি ও বাদ্যযন্ত্রের দলসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান, হোটেল-মোটেল, পর্যটন সংগঠন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্কাউট সদস্যরা অংশ নেন। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’।
র্যালি শেষে লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে জেলা প্রশাসক এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। বক্তব্য দেন নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসেন, জেলা পুলিশের প্রতিনিধি দেবদূত মজুমদার, টুয়াক সভাপতি আনোয়ার কামালসহ পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্র, পাহাড়, দ্বীপ ও সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জেলাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এজন্য পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে কক্সবাজারকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে হবে। কিশোর গ্যাং, ছিনতাইসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, পর্যটনকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে পর্যটন তথ্য প্রচার, ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র, নির্ভরযোগ্য পরিবহন ও হোটেল তথ্য, সহজ অভিযোগ ব্যবস্থা এবং জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান জানান, বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা চলছে। মেলায় হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, বাইক ও স্পিডবোটসহ বিভিন্ন সেবায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, মেলায় প্রায় ৮০টি স্টল রয়েছে। তারকা হোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, নারী উদ্যোক্তা ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এতে অংশ নিয়েছেন। রোববার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলা শেষ হবে।
পর্যটন খাতের বিনিয়োগকারীরা বলেন, কক্সবাজারে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনসেবার মান বাড়ানো গেলে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এফপি/র