| শিরোনাম: |

সংগৃহীত ছবি
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের কোলাদী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর ২০২৫) বিকালে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিয়াল প্রদর্শনী ও কোলাদী ফুটবল টুর্নামেন্ট। বিকাল ৩টা বাজতে না বাজতেই মাঠ পরিণত হয় উৎসুক মানুষের ঢলে—গ্রামের নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ, শিশুসহ কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ।
লাঠির ঝঙ্কার–ঢোলের তালে ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ
লোকজ ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত প্রকাশ হিসেবে ছয়টি ওয়ার্ডের ছয়টি লাঠিয়াল দল দিনব্যাপী প্রদর্শনী করছে—কোলাদী, হলুদবাড়িয়া, ভাউডাঙ্গা (নতুনপাড়া), ভাউডাঙ্গা (কদমতলা), ভাঁড়ারা (খাঁপাড়া) এবং কাথুলিয়া লাঠিবাড়ি।দলের প্রতিটি সদস্যের লাঠি ঘোরানো, ছোঁড়া, প্রতিরক্ষামূলক কৌশল, ব্যুহ ভাঙার স্টাইল—সব মিলিয়ে গ্রামীণ শক্তি ও শৌর্যের অনন্য এক চিত্র তুলে ধরে। খেলা শেষে তাদের সকলকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
পাবনা-নাটোর অঞ্চলে লাঠিয়াল সংস্কৃতি একসময় গ্রামরক্ষার প্রতীক ছিল। জমিদারি আমলের সেই ঐতিহ্য আজও ভাঁড়ারা ইউনিয়ন আগলে রেখেছে বছরজুড়ে আয়োজন করা এই লাঠিখেলার মাধ্যমে।
শনিবার ফুটবল ফাইনাল—চ্যাম্পিয়ন পাবে বিশাল ষাঁড়। নভেম্বরের ৬ তারিখ শুরু হওয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট শনিবার (২৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে জমজমাট ফাইনাল ফুটবল ম্যাচ। পুরস্কারও ব্যতিক্রমধর্মী—চ্যাম্পিয়ন দলকে একটি বিশাল ষাঁড় গরু,রানার্স-আপ দলকে একটি মাঝারি ষাঁড় গরু।এ পুরস্কারকে ঘিরে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মাঠে চলছে দলগুলোর প্রস্তুতি ও সমর্থকদের উল্লাস।
অতিথিদের উপস্থিতিতে আয়োজন আরও বর্ণিল
প্রধান অতিথি,মোঃ সুলতান মাহমুদ, চেয়ারম্যান, ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ।
বিশেষ অতিথিরা
মোঃ কোরবান আলী খান, প্যানেল চেয়ারম্যান, মোঃ ফিরোজ উদ্দিন শেখ, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা,মোঃ আখতারুজ্জামান বিশ্বাস (দুদু), সমাজসেবক,মোঃ নজমুস শাহাদত (নজো), সমাজসেবক,মোঃ সাইদুল ইসলাম (ছাপ্পান্ন), সাবেক ইউপি সদস্য ও সাবেক কৃতি ফুটবলার,মোঃ আব্দুল খালেক খান, সাবেক ইউপি সদস্য ও ব্যবসায়ী,মোঃ আমিরুল ইসলাম (মওলা), সাবেক ইউপি সদস্য ও ব্যবসায়ী।
আয়োজক কমিটি
সভাপতি: মোঃ মোজাহার আলী খান, সভাপতি, কোলাদী ফুটবল টুর্নামেন্ট বাস্তবায়ন কমিটি
সঞ্চালনা: মোঃ সহিদুর রহমান পাভেল, সাধারণ সম্পাদক, কোলাদী ফুটবল টুর্নামেন্ট বাস্তবায়ন কমিটি
গ্রামে উৎসব, মাঠে জনসমুদ্র
সূর্য ডোবার পরও মাঠে দর্শকদের অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। লাঠিয়াল প্রদর্শনীর সাথে ঢোলের বাদ্য, দর্শকের উল্লাস, গ্রামের বাজার ও হাটে উৎসবের আমেজ—সব মিলিয়ে কোলাদী গ্রাম পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষায়—
“লাঠির শব্দে আমাদের পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরে আসে, আর ফুটবল তরুণদের টানে নতুন স্বপ্নের দিকে।”
এফপি/জেএস