শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-এর প্রভাবে সৃষ্ট টানা বর্ষণ, ভূমিধস ও হড়কা বন্যায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দেশজুড়ে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু এবং আরও ২১ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে দ্বীপদেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) কর্মকর্তারা জানান, বৃষ্টি ও ভূমিধসেই ৪০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যেই গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে নতুন করে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’। আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ঝোড়ো হাওয়া এখনো থামেনি, বহু এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা আরও বন্যা ও ভূমিধস ডেকে এনেছে।
চা উৎপাদনকারী বাদুল্লা জেলায় রাতের ভূমিধসে ২১ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি)। সংস্থাটি জানায়, ভারী বর্ষণ ও হড়কা বানের কারণে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বিপর্যস্ত এলাকা পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শ্রীলঙ্কা থেকে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বন্যার স্রোতে ঘরবাড়ি ভেসে যাচ্ছে, রাস্তাঘাট ডুবে যাচ্ছে, মানুষজন আটকে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকায়। ডিএমসি বলছে, উদ্ধারকাজ চলছে; তবে দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে উদ্ধারকারী দল।
গভীর নিম্নচাপ হিসেবে জন্ম নেওয়া ‘ডিটওয়াহ’ দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। তাণ্ডবের পরও দেশের বিভিন্ন নদীর পানিস্তর বাড়ছেই। সেচ বিভাগ জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেলানি নদীর নিম্নাঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানী কলম্বোও।
ডিএমসি জানিয়েছে, নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ উচ্চভূমিতে সরে যেতে হবে, কারণ পরবর্তী বৃষ্টিপাত আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এফপি/অ