নাটককে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে নাট্যাঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন অভিনেতা, বাচিক শিল্পী, নাট্যকার ও নির্মাতা কাজী জাহাঙ্গীর। নব্বইয়ের দশকে মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে তার অভিনয়জীবনের সূচনা হয় এবং এরপর থেকে টেলিভিশন, বেতার ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন।
মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে নাট্যজগতে যাত্রা শুরু করার পর তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার-এর বিভিন্ন নাটকে অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি এবং অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় যুক্ত হন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি নিয়মিতভাবে টেলিভিশন নাটক পরিচালনা শুরু করেন এবং একক নাটক, ধারাবাহিক নাটক ও নানা সামাজিক বিষয়ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে আসছেন।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধিতা ও অটিজম বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পাশাপাশি তিনি অটিজম নিয়ে গবেষণা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণেও অংশগ্রহণ করেছেন। চলচ্চিত্র নির্মাণে দক্ষতা অর্জনের জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে UNICEF আয়োজিত ক্রিয়েটিভ মিডিয়া প্রডাকশন প্রশিক্ষণ, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট পরিচালিত ডিজিটাল ফিল্ম মেকিং কোর্স এবং বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট আয়োজিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ কৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষণ।
নাট্যকার হিসেবে কাজী জাহাঙ্গীর সমাজসচেতন গল্প নির্মাণে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তার রচিত ও প্রচারিত উল্লেখযোগ্য নাটক “ফেরার গল্প”-এ স্কুলপড়ুয়া কিশোরদের মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া “তিন পুরুষের গল্প” নাটকে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক সময়ের প্রজন্মের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে, যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে।
সংগঠক হিসেবেও কাজী জাহাঙ্গীরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৭ সালে দেশে বিলিয়ার্ডস ও পুল খেলাকে জনপ্রিয় করতে তিনি প্রশিক্ষণ ও টুর্নামেন্ট আয়োজন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তরুণদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত “জল জোসনা” ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। এছাড়া “দোয়েল” নামের একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনভিত্তিক চারটি নাটক রচনা ও পরিচালনা সম্পন্ন করেছেন। নাটকগুলো হলো—“ফুল”, “তবুও স্বপ্ন দেখি”, “আশায় ভালোবাসায়” এবং “জয়ধ্বনি”, যা শিগগিরই প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতায় কাজী জাহাঙ্গীর মনে করেন, শিল্পের একটি নির্দিষ্ট শাখায় ধারাবাহিক চর্চাই একজন শিল্পীকে প্রতিষ্ঠিত করে। বর্তমানে তিনি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের লক্ষ্যে গবেষণা, চিত্রনাট্য রচনা ও নির্মাণ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এফপি/এমআই